Home » রাজনীতি » আবারও মেয়রের কঠোর সমালোচনায় মহিউদ্দিন
dsdc-114

আবারও মেয়রের কঠোর সমালোচনায় মহিউদ্দিন

চার মাস পর আবারও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কঠোর সমালোচনা করলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে সংসদে সোচ্চার না থাকায় স্থানীয় সাংসদদেরও সমালোচনা করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের চশমা হিলে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নাছির সাহেবকে (মেয়র) মনোনয়ন দিয়েছেন আমাদের নেত্রী। তাঁকে আমরা মেয়র বানিয়েছি। কিন্তু তিনি যেসব কথাবার্তা বলছেন, মনে হয়, রাষ্ট্রপতির চেয়ে বড় হয়ে গেছেন। মাইক পেলে কথা বলেন। গাড়িতে বসে মোবাইলে কথা বলেন। সর্বক্ষণ উনি কাজে ব্যস্ত থাকেন। কী কাজ করছেন? রাস্তায় এক হাঁটু পানি, এক বুক পানি। উন্নয়ন তো নেই।’

মেয়র নাছির চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগেরও সাধারণ সম্পাদক। এর আগে গত ১০ এপ্রিল নগরের লালদীঘি মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র নাছিরের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছিলেন। মেয়রকে তখন ‘অযোগ্য’ বলেও সমালোচনা করেছিলেন তিনি।

তখন মহিউদ্দিনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মেয়র নাছির বলেছিলেন, ‘একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এভাবে কথা বলতে পারে না। এসব স্টান্টবাজি।’ ওই ঘটনার এক সপ্তাহ পর ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সভায় মহিউদ্দিন মেয়র নাছিরের হাত ধরে বিরোধ মিটিয়ে ফেলেন।

গতকাল মেয়রের উদ্দেশে মহিউদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রামের জন্য কিছু রিলিফ তো আনা যায়। এটা সংগ্রহ করেন। কিন্তু পারছেন না। আমিও মেয়র ছিলাম। চাইলে তো আপনি আনতে পারেন। করছেন না কেন? টাকাপয়সা তো অনেক আয় করেছেন।’

চট্টগ্রাম নগর এলাকা থেকে নির্বাচিত সাংসদদের সমালোচনা করে মহিউদ্দিন বলেন, তাঁরা সংসদে যান কথা বলার জন্য। চট্টগ্রাম নগরে যাঁরা আছেন, সংসদে তাঁদের একটা কথা বলতে শুনেছেন? সংসদে তাঁরা বসে থাকেন। তাঁদের কথা হলো, সংসদে যাবেন, ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন। নগরের রাস্তাগুলোর করুণ অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, লজ্জা লাগে শহরের লোকেরা, কর্মকর্তারা, স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা সাম্পানে করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাচ্ছে। কী করুণ অবস্থা, এক হাঁটু পানি। ছেলেমেয়েদের পায়ে ঘা হয়ে গেছে। মানুষ নীরব আছে বিভিন্ন কারণে। মানুষ কিন্তু ক্ষমা করবে না।

নগরের সার্বিক উন্নয়নে হতাশা ব্যক্ত করে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন করতে নেত্রী প্রচুর টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু সেই উন্নয়নের নামে কতগুলো অপকর্ম হচ্ছে। সামান্য জলাবদ্ধতা নিরসন করতে এত বেশি লম্ফঝম্ফ কেন? চুরি করতে, টাকা বানাতে যদি এক সপ্তাহে পারেন, তাহলে এটা পারবেন না কেন?

কর্ণফুলী নদী খননের দাবি জানিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ড্রেজিং করলেই পানির স্রোত বেশি থাকবে। নালা-নদর্মার মধ্যে যে আবর্জনা, তা একসঙ্গে চলে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

kader sir 3

‘বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সুযোগ নেই’

Sharing is caring!FacebookTwitterGoogle+Pinterestআওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি ...