Home » বিনোদন » কারাগারে বঙ্গবন্ধুর রোজনামচা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান

কারাগারে বঙ্গবন্ধুর রোজনামচা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান

বঙ্গবন্ধুর ডায়েরি পড়লে তাঁর অবয়ব এবং কথা বলার ভঙ্গিগুলো টের পাওয়া যায়। মুখের ভাষায় লেখা সেই রোজনামচায় যেন কথা বলতে থাকেন সাধারণ একজন বাঙালি পুরুষ। সেখানে কখনো তিনি একজন সন্তান, কখনো পিতা, কখনো নেতা, আবার কখনো একজন চিন্তাশীল দার্শনিক। জীবনের অর্ধেক সময় কারাগারে কাটিয়ে সেসব লিখে রেখে গেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর ৪২ বছর পর সেসব পড়তে বসেছে বাঙালি।

গতকাল বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমিতে ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারের রোজনামচাবইটি নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক। বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে এর আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, হারুন-অর-রশিদ, নজরুল ইসলাম, মেসবাহ কামাল, সেলিনা হোসেন, মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবির, সৈয়দ আবুল মকসুদ, আবদুল মান্নান চৌধুরী, সাদেকা হালিম, মশিউর রহমান, মহিউদ্দিন আহমেদ ও ফিরোজ মাহমুদ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থে তাঁর অন্তরালের পরিচয় স্বচ্ছভাবে ফুটে উঠেছে। এই গ্রন্থ প্রকাশের পর বঙ্গবন্ধুর জীবনীতে যেমন নতুন তথ্য সংযোজনের পরিসর তৈরি হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের ইতিহাসেরও অজানা নানা অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। কারাগারে সহবন্দীদের সম্পর্কে তাঁর শ্রদ্ধাবোধ উঁচু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বেরই পরিচয়বহ। তাঁরা বলেন, কারাগারে বসে একদিকে বঙ্গবন্ধু যেমন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা, ছয় দফা আন্দোলন সম্পর্কে লিখেছেন, তেমনি আন্তর্জাতিক বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহ, ফরাসি বিপ্লববার্ষিকী, ভিয়েতনামে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকা নিয়ে নিজের অবস্থানের কথাও লিখেছেন। এমনকি কারাগারের কুঠুরিতে ঘুরে বেড়ানো ছোট্ট পাখিকে নিয়ে তাঁর বর্ণনা সংবেদনশীল পাঠককে স্পর্শ করবে।

বক্তারা বলেন, এটি হয়তো প্রথাগত সাহিত্য বা কাঠামোগত রাজনৈতিক ইতিহাস গ্রন্থ নয়। কিন্তু এটি এমন এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত রচনা, যা ইতিহাস পুনর্নির্মাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বইটি প্রকাশের নেপথ্যের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। তিনি জানান, শিগগির বঙ্গবন্ধুর লেখা চীন ভ্রমণবিষয়ক বইও প্রকাশ করবেন তাঁরা।

সভাপতির বক্তব্যে আনিসুজ্জামান বলেন, কারাগারের রোজনামচা থেকে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের বিশেষ কিছু দিক খুঁজে পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে তাঁর সর্বব্যাপী সহানুভূতি। কারাগারের পাগল, চোর, অসুস্থ ব্যক্তি, পশু-পাখি সবার প্রতি তিনি ছিলেন সহানুভূতিশীল। আর একটি দিক ছিল তাঁর প্রচ্ছন্ন কৌতুকবোধ। ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, বঙ্গবন্ধু নির্মোহভাবে তাঁর লেখায় সেসবের স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এদিকে সকালে একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘শিশু-কিশোরদের চোখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে এর সমন্বয় করেন সুভাষ সিংহ রায়। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

19

পাঁচ রঙে অপু বিশ্বাস

Sharing is caring!FacebookTwitterGoogle+Pinterestগতকাল শনিবার সারা দিন অপু বিশ্বাস ছিলেন এফডিসির শুটিং ফ্লোরে। কোনো সিনেমার জন্য ...