Home » শীর্ষবার্তা » কিছুই যাবে না ফেলা পুরোনো নৌকা থেকে আসবাব
7

কিছুই যাবে না ফেলা পুরোনো নৌকা থেকে আসবাব

পাবনার বেড়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে যমুনার পারে নাকালিয়া বাজার। গ্রামের মানুষের প্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যই মেলে এখানে। তবে এই বাজারের একটি বিশেষ পণ্য মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দেয়। এখানে আছে পুরোনো নৌকা ভাঙার কারখানা। পুরোনো নৌকা ভেঙে সেই কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয় আসবাব। শুধু চরের মানুষই এগুলোর ক্রেতা নন, দূর-দূরান্তের মানুষও এগুলো কিনতে আসেন।

নাকালিয়া বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে যমুনা নদীর একেবারে পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে নৌকা ভাঙার ৮-১০টি কারখানা। প্রতিটি কারখানায় রয়েছে দুটি অংশ। একটি অংশ নদীসংলগ্ন। সেখানে পুরোনো নৌকা ভাঙার কাজ চলে। অন্য অংশটি সামান্য ওপরে। সেখানে চলে আসবাব তৈরির কাজ।

ভাঙা নৌকার কাঠ থেকে সবচেয়ে বেশি তৈরি করা হয় চৌকি, দরজা ও হাঁস-মুরগির ঘর। এ ছাড়া টেবিল, চেয়ারসহ অন্যান্য আসবাবও তৈরি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাঠের গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে ঘরের কাঠামো তৈরির উপযোগী সামগ্রীও বানানো হয়।

কারখানার মিস্ত্রি আর ক্রেতারা বললেন, ভাঙা নৌকার কাঠ থেকে তৈরি আসবাব নতুন কাঠের আসবাবের চেয়েও বেশি মজবুত ও টেকসই। কারণ নৌকাগুলোতে প্রতিবছরই আলকাতরা দেওয়া হয়। এতে এমনিতেই কাঠগুলো শক্ত হয়ে ওঠে। এর ওপর বছরের পর বছর পানির সংস্পর্শে থাকায় কাঠগুলোতে সামান্য পরিমাণও ঘুণে ধরে না।

তবে এই আসবাব দেখতে সুন্দর হয় না। প্রতিটি আসবাবের গায়েই লেগে থাকে আলকাতরা আর পানিতে দীর্ঘদিন ভিজে থাকার ছোপ ছোপ দাগ। এ ছাড়া সেগুলোতে দেখা যায় পেরেক ও তারকাঁটার গর্ত।

 একটি কারখানার মিস্ত্রি নূরজামাল বলেন, ‘নৌকার কাঠগুলো হয় দুই ধরনের। দীর্ঘদিন পানিতে থাকায় এক ধরনের কাঠ পচে যায়। সেগুলো দিয়ে খড়ি (জ্বালানি) বানানো ছাড়া কোনো কাজই চলে না। অন্যদিকে আলকাতরা ও পানিতে ভিজে থাকার কারণে কিছু কাঠ হয়ে ওঠে লোহার মতো শক্ত। এগুলোকে আমরা পানাইট বলি। এগুলা দিয়া আসবাব বানাইলে একেবারে অক্ষয় হয়া যায়।’

সিরাজগঞ্জের ওমরপুর চর থেকে দরজা কিনতে এসেছিলেন আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা চরের মানুষ। দর্শনদারির দরকার নাই। গুণের দরকার।’ তিনি জানান, ১৫ বছর আগে তিনি নৌকা ভাঙা কাঠের চৌকি কিনেছিলেন। এখনো সেটা আগের মতোই আছে।

ভাঙা নৌকার কাঠের একেকটি চৌকির দাম ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। হাঁস-মুরগির ঘরের দাম ১ থেকে ২ হাজার টাকা। দরজার দাম দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।

পুরোনো নৌকার খোঁজে

পুরোনো নৌকাই কারখানাগুলোর প্রধান কাঁচামাল। কারখানার মালিকেরা জানান, নতুন নৌকাগুলো ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আগে এ কাঠ জ্বালানি হিসেবেই ব্যবহৃত হতো। নৌকা ভাঙার কারখানাগুলো গড়ে ওঠার পর নৌকার মালিকেরা কারখানার মালিকদের কাছে এনে সেগুলো বিক্রি করেন। ভালো দাম পান। তবে অনেক সময় নৌকার মালিকেরা কারখানায় না এলে কারখানার মালিকেরা বেরিয়ে পড়েন পুরোনো নৌকার খোঁজে।

কারখানার মালিক আইয়ুব আলী জানান, খবর পাওয়ামাত্রই নৌকার মালিকের বাড়িতে চলে যান তাঁরা। অবস্থা ভেদে ২৫ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকায়ও নৌকা কেনা হয়। আয় কেমন হয় জানতে চাইলে বলেন, ‘আমাগরে লাভের ঠিক নাই। একেক নৌকার থ্যা কখনো কখনো ১৫-২০ হাজার টাকা লাভ হয়, আবার কখনো কখনো ৫ থেকে ৭ হাজার টাকাও লাভ হয়। তবে এই কাজ কইর‌্যা আমরা ভালোই আছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ee

হাঁকডাক দিয়ে ইলিশ বিক্রি

Sharing is caring!FacebookTwitterGoogle+Pinterestপটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় রাবনাবাদ নদ ও বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। ...