Home » সারাদেশ » চালের দাম প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী যে বিপত্তি হয়েছে, তা সাময়িক

চালের দাম প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী যে বিপত্তি হয়েছে, তা সাময়িক

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের (মঞ্চে) উপস্থিতিতে সোনালী ব্যাংক ও প্রাণ ডেইরির মধ্যে একটি চুক্তি সই হয় l প্রথম আলোঅর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘একটি দেশের চরিত্র পরিবর্তনের জন্য, সুখে থাকার জন্য ১০-১২ বছরের ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। আমরা ৮ বছর ধরে প্রবৃদ্ধি করছি। আগামী ২ বছর আরও ক্ষমতায় থাকব, এ সময়েও ভালো প্রবৃদ্ধি হবে।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘তবে বন্যার কারণে কিছুটা অসুবিধা হয়েছে। অনেক চাল আমদানি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বেড়েছে, এ জন্য খরচও বাড়ছে। দেশের মানুষের জন্য আমরা এ সহায়তা করেই যাব। যে বিপত্তি হয়েছে, তা সাময়িক। অতি সহজেই আমরা সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল বুধবার প্রাণ ডেইরির সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এই চুক্তির ফলে উন্নতজাতের গাভি পালন ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাণের নিবন্ধিত খামারিদের ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক। প্রাণ ডেইরির দেওয়া তালিকা অনুযায়ী তাদের চুক্তিবদ্ধ খামারিদের এ ঋণ প্রদান করা হবে। খামারিদের জন্য জামানতবিহীন ঋণসীমা ৫০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ পর্যন্ত। জামানতসহ ঋণসীমা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা থাকবে তিন থেকে পাঁচ বছর। সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। দুধ বিক্রির টাকা থেকে কিস্তি শোধ করবে প্রাণ।

প্রাণের প্রয়াত চেয়ারম্যান আমজাদ খান চৌধুরীর সঙ্গে বিভিন্ন স্মৃতি রোমন্থন করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা। কৃষি খাতে এখন তাঁরাই শীর্ষে। এ খাতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তি খাত এগোচ্ছে, তবে অর্থনীতির ভিত্তি এখনো কৃষি। জিডিপিতে এ খাতের অবদান কম হলেও খাতটি খুবই প্রভাবশালী। কৃষিভিত্তিক জাতি বলতে আমরা কোনো দুঃখবোধ বা লজ্জাবোধ করি না। আমরা এখনো সেবাভিত্তিক জাতি হতে পারিনি—এ জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।’

আবদুল মুহিত বলেন, ‘সরকারি ব্যাংকগুলো নানা সেবা দিয়ে থাকে। এসব ব্যাংক নিয়ে নানা সমস্যা হয়। এরপরও আমরা ব্যাংকগুলো পুষি, কষ্ট হয় আমাদের। তবে এমন উদ্ভাবনী সেবা বেসরকারি ব্যাংকে পাওয়া যাবে না। সরকারি ব্যাংক বেশি ঝুঁকি নেয়, তাই ঋণখেলাপি বেশি।’

অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ইউনুসুর রহমান বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলো বড় ঋণ দিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। ঋণ যাচ্ছে, ফেরত আসছে না। এসব ঋণ চুক্তির ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে, মাংসের চাহিদাও পূরণ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকের এক-তৃতীয়াংশ ঋণ খেলাপি। মূলধন ঘাটতি রয়েছে, সঞ্চিতিও রাখতে পারছে না। নির্দিষ্ট খাতে ও ব্যক্তির কাছে ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ভারসাম্য আনতে হবে। এসব ছোট ছোট প্রকল্প ব্যাংকটিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। আশা করি ব্যাংক আরও নতুন প্রকল্প নেবে, যাতে সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়।’

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, প্রাণ ডেইরির দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, তাদের চুক্তিবদ্ধ খামারিদের এ ঋণ প্রদান করা হবে। দেশে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি হলেও সমস্যা রয়েছে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার। কারণ, বিপণন ও সংরক্ষণের ওপর কৃষকদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রাণের সঙ্গে চুক্তির ফলে কৃষকেরা এ সুবিধা পাবেন।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান খান চৌধুরী বলেন, এই চুক্তির ফলে প্রাণের সঙ্গে যুক্ত খামারিরা গাভি ক্রয়, শেড স্থাপন, মিল্কিং মেশিন, চপার মেশিন, দুধ বহনের অ্যালুমিনিয়াম ক্যানসহ খামার ব্যবস্থাপনার আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ঋণ-সুবিধা পাবেন। নাটোরের গুরুদাসপুর, পাবনার চাটমোহর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও বাঘাবাড়ী এবং রংপুরে প্রাণের পাঁচটি ডেইরি ‘হাব’ রয়েছে। এর অধীনে ১১ হাজারের বেশি নিবন্ধিত দুগ্ধ খামারি আছেন। এসব খামারির কাছে প্রায় ৫৫ হাজার গবাদিপশু রয়েছে।

আহসান খান বলেন, ‘প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে এখন ৯৪ হাজার জনবল রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, এই সংখ্যা একদিন ১০ লাখে পৌঁছাবে। আমরা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে কাঁসাবা উৎপাদনের কথাও ভাবছি।’

অনুষ্ঠান শেষে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) উজমা চৌধুরী এবং সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম এ-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল, প্রাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গড়ছে ভাঙছে দল ও জোট

Sharing is caring!FacebookTwitterGoogle+Pinterestএকাদশ সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নতুন নতুন দল ও জোট গঠন ...