Home » অর্থ-বাণিজ্য » নতুন আয়কর আইন হচ্ছে

নতুন আয়কর আইন হচ্ছে

নতুন আয়কর আইন তৈরি করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই আইনের খসড়া তৈরি করতে চায় রাজস্ব আদায়কারী এই সংস্থা। আইনের খসড়া হয়ে গেলে পরের চার-পাঁচ মাস বিশিষ্ট করদাতা, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, গবেষকসহ অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। দেশব্যাপী স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও করদাতাদের সামনেও খসড়া আইনটি তুলে ধরা হবে। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে।

এরপর আগামী বছরের জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে আইনটি পাস করা হতে পারে। নতুন আয়কর আইনটির ভাষা হবে বাংলায়। এর ইংরেজি অনুবাদও থাকবে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে বছরের যেকোনো সময়ে প্রজ্ঞাপন দিয়ে কর আরোপ করা হয়। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, নতুন আইনের খসড়ায় এভাবে প্রজ্ঞাপন দিয়ে কর আরোপের বিধান পুরোপুরি তুলে দেওয়া হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতি কিংবা জাতীয় দুর্যোগেই কেবল এমন সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া যেকোনো কর আরোপের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাস করিয়ে আনতে হবে। অন্যদিকে বিদ্যমান আইনের মতো নতুন আইনেও কর রেয়াত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ঢালাওভাবে কর রেয়াত না দিয়ে জরুরি পরিস্থিতি কিংবা বিনিয়োগের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে তা জাতীয় সংসদে পাস করার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান গতকাল বুধবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সার্বিকভাবে বিনিয়োগবান্ধব ও গণমুখী একটি কর আইন তৈরি করা হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ আহরণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে যেসব সর্বোত্তম অনুশীলন (ইন্টারন্যাশনাল বেস্ট প্র্যাকটিস) যেমন ট্রান্সফার প্রাইসিং, মুনাফা প্রত্যাবাসন, মুদ্রা পাচার—এসব বিষয় নতুন আইনে থাকবে। আশা করি আগামী মার্চ মাসের মধ্যে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে পারব।’

নতুন আইনে করদাতাদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমায় তেমন কোনো বড় পরিবর্তন আসবে না। তবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিটার্ন জমার সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া নতুন আইনের খসড়ায় করপোরেট কর হার অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানা গেছে। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেন, কর ব্যবস্থা এখনো এ দেশে দুর্বল। তাই করপোরেট কর হার কমানো কঠিন হবে।

নতুন আইনে বিদ্যমান আইনের বিষয়গুলোর পাশাপাশি বহির্বিশ্বের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, টাকা পাচার প্রতিরোধে নতুন আইনের খসড়ায় একাধিক ধারা থাকবে। বিশেষ করে ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ে স্বচ্ছতা আনতেই এই উদ্যোগ। কোনো কোম্পানি নিজেদের আয়ের ওপর কম কর দিয়ে বাড়তি মুনাফা অন্য কোম্পানিতে নিয়ে যাচ্ছে কি না—এসব বিষয় নজরদারি করার জন্য নতুন আইনে বিভিন্ন ধারা থাকবে। অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একীভূত হলে কী ধরনের কর ব্যবস্থা হবে—সেই বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ দিয়ে দেশের আয়কর ব্যবস্থা চলছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মেয়াদে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও কাস্টমস আইন যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে নতুন আয়কর আইন হচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

15

যেভাবে যাত্রা শুরু ক্রেডিট কার্ডের

Sharing is caring!FacebookTwitterGoogle+Pinterest ১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ করতে গিয়েছিলেন ফ্রাঙ্ক ম্যাকনামারা নামে ...