Home » শীর্ষবার্তা » নির্ধারিত সময়ের আট মাস পরও নির্মাণ শেষ হয়নি
g

নির্ধারিত সময়ের আট মাস পরও নির্মাণ শেষ হয়নি

নির্ধারিত সময়ের আট মাস পরেও কুমিল্লার শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাসের নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে জেলার পশ্চিমাঞ্চলের নয় উপজেলাসহ ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেটের যাত্রীদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। উপরন্তু ওভারপাসের নিচের সড়ক খানাখন্দে ভরা থাকায় তা তাদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে কাদাপানি জমে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কুমিল্লা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা রেলক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন ৩৮টি ট্রেন যাতায়াত করে। এতে প্রতিটি ট্রেনের জন্য এই ক্রসিংয়ে সড়কপথের যাত্রীদের ন্যূনতম পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। প্রায়ই এখানে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করার জন্য ২০১৩ সালের ১ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরোনো জাতীয় মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার শাসনগাছা এলাকায় ৬৩১ দশমিক ৫০ মিটার দীর্ঘ রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়।

সওজ সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে ওই ওভারপাস নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ওই প্রকল্পের জন্য ৪৯ কোটি ৬২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি পায় স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর কাজটি শেষ করার কথা। কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। পরে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে ওই কাজ শেষ করার সময় বাড়ানো হয়। ওই সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ হয়নি। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আনিছুর রহমান বলেন, ২৪টি স্ল্যাবের মধ্যে সব কটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন পূর্ব পাশের র‍্যাম (রিটেইনিং ওয়ালের নির্মাণ) এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এত দিন বৈদ্যুতিক লাইন সরানো নিয়ে ঝামেলা ছিল। তাই কাজের গতি ছিল কিছুটা মন্থর।

এ প্রসঙ্গে সওজ কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সাইফউদ্দিন বলেন, রেলওয়ে ওভারপাসের লাগোয়া অংশের বৈদ্যুতিক খুঁটি নির্ধারিত সময়ে না সরানোর কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের আগেই ওভারপাস জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

শাসনগাছা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্ল্যাব, পাইল, গার্ডার, কলামের কাজ শেষ হয়েছে। পূর্ব পাশের র‍্যাম ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ বাকি রয়েছে। বৈদ্যুতিক লাইনও সরানো হয়নি।

 নির্মাণাধীন রেলওয়ে ওভারপাস এলাকার নিচের সড়কের অবস্থা খুব খারাপ। সড়কের বাদশা মিয়ার বাজার, ভাই ভাই হোটেল, ঝিনুক হোটেল, নবান্ন হোটেল, মীম হাসপাতাল ও হোটেল শাহজালাল এলাকার অংশে ছোট-বড় অন্তত সহস্রাধিক গর্ত রয়েছে। সড়কের এ অংশে বড় আকারের চারটি ডোবা রয়েছে। এগুলোতে পানি জমে আছে। এ পথ দিয়ে শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী; কুমিল্লার বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, মুরাদনগর, দেবীদ্বার, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস, হোমনা, মেঘনা উপজেলা এবং ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেটের মানুষ পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ কুমিল্লা সদর উপজেলায় যাতায়াত করে। কিন্তু সড়কটির দুরবস্থার কারণে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

হোমনা উপজেলার রেহানা মজিদ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘গত আড়াই বছর রোদ-বৃষ্টিতে হেঁটে ওই এলাকা পার হতে হচ্ছে। এখনো কাজ শেষ হচ্ছে না। কবে শেষ হবে আল্লাহই জানেন।’

বুড়িচং উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনজন নারী শিক্ষক প্রতিদিন কুমিল্লা শহর থেকে যাতায়াত করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই তিন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওপরে ওভারপাসের কাজ হচ্ছে, নিচে ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে আমরা পার হচ্ছি। এটা যেন মগের মুল্লুক। প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যেই গন্তব্যে যাচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ee

হাঁকডাক দিয়ে ইলিশ বিক্রি

Sharing is caring!FacebookTwitterGoogle+Pinterestপটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় রাবনাবাদ নদ ও বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। ...