Home » শীর্ষবার্তা » ৫২ দেশের ৬ শতাধিক স্পিকার ও এমপিদের বরণে প্রস্তুত ঢাকা

৫২ দেশের ৬ শতাধিক স্পিকার ও এমপিদের বরণে প্রস্তুত ঢাকা

আগামী ১ থেকে ৮ নভেম্বর কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) ৬৩তম সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন আরেকটি ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো এ দেশে হতে যাওয়া এ সম্মেলনটি বাংলাদেশের ৪৬ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এর মাধ্যমে একই বছরে দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আয়োজক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সম্মেলনে কমনওয়েলথভুক্ত ৯টি রিজিওনের ৫২টি দেশের ১৮০টি জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও এমপিসহ ৬ শতাধিক বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের দুই শতাধিক সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক আসবেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো- ‘কনটিনিউনিং টু এনহ্যান্স দ্য হাই স্ট্যান্ডার্ড অব পারফরম্যান্স অব পার্লামেন্টারিয়ানস’। সম্মেলনে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।
সম্মেলন দুটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। এর একটি অংশ রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্ল–তে ১ নভেম্বর গ্রুপ বৈঠকের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে বিভিন্ন কমিটির বৈঠক হবে। সেখানে স্ট্যান্ডিং কমিটি, স্টিয়ারিং কমিটি, সিডব্লিউপির (কমনওয়েলথ উইমেন পার্লামেন্টারিয়ান) স্টিয়ারিং কমিটি, কো-অর্ডিনেটিং কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটির বৈঠক হবে। আর ৫ নভেম্বর উদ্বোধনের পর থেকে অনুষ্ঠান চলবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। ৮ নভেম্বর শেষ হবে এই সম্মেলন।

সূত্রমতে, সম্মেলন ১ নভেম্বর শুরু হলেও মূল সম্মেলনের উদ্বোধন হবে ৫ নভেম্বর। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ও সম্মেলনের ভাইস প্যাট্রন শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মূল সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এরপর সিপিএর চিফ প্যাট্রন যুক্তরাজ্যের রানী এলিজাবেথের সম্মেলন উপলক্ষে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা পাঠ করে মূল সম্মেলনের শুভ সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের বিষয়ে সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, স্বাগতিক দেশ হিসেবে সিপিএ সম্মেলনটি আয়োজনে বাংলাদেশ পুরোপুরি প্রস্তুত। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ক অনেক সভা করা হয়েছে। সব নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। অন্যান্য পর্যায়েও এ ধরনের সভা চলছে। সরকারের স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোও প্রত্যেকে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আইপিইউ সম্মেলন সুন্দরভাবে করতে পেরেছি। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই সম্মেলনটা যেভাবে আরো সুন্দর করা যায় সে বিষয়ে আমরা সবাই সচেতন। আমাদের এমপিরাও বিভিন্ন সাব-কমিটিতে যুক্ত হয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। আশা করছি সুন্দরভাবে সম্মেলনটা শেষ করতে পারব। এই আয়োজন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারলে বিশ্ব বাংলাদেশকে নতুন করে চিনবে।

সিপিএ সম্মেলন বাংলাদেশকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে যাবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে জাতীয় সংসদের স্পিকার বলেন, লন্ডনে অনুষ্ঠিত সিপিএর ৬২তম সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় এবারের সম্মেলন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। তখন থেকেই সিপিএভুক্ত দেশগুলো এ বিষয়ে অবহিত। সম্মেলনে যোগ দিতে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫ শতাধিক প্রতিনিধি রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এর মধ্যে ৫০ জনের বেশি স্পিকার রয়েছেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই সম্মেলন নিয়ে চলছে জোর প্রস্তুতি। চলতি বছর এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলন আয়োজনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিপিএ সম্মেলনটিকে আরো জাঁকজমকপূর্ণ করতে চায় বাংলাদেশ। এ জন্য সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্থা জাতীয় সংসদ ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। সম্মেলনের ভেন্যু নির্ধারণ, হোটেল বুকিং, যাতায়াত ব্যবস্থা, আলোচ্য বিষয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সব কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ভেন্যু প্রস্তুতসহ অন্যান্য কাজও এগিয়ে চলছে।

সিপিএ চেয়ারপার্সন ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজেই এসব কাজের তদারকি করছেন। তিনি সম্মেলনের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত এশিয়াটিকের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে কাজের অগ্রগতির খোঁজখবর নিচ্ছেন। নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বাধিক ?গুরুত্ব দিয়ে শিরীন শারমিন চৌধুরী নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। এক্ষেত্রে আইপিইউ সম্মেলনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিদেশি মেহমানদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেশন নিয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ২৬টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সম্মেলনের পুরো নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে ডিএমপি। সম্মেলনে অংশ নিতে আসা ৬ শতাধিক বিদেশি অতিথির আবাসন নিশ্চিতে ইতোমধ্যে রাজধানীর সোনারগাঁও, রেডিসন ব্ল–সহ ৫টি পাঁচ তারকা মানের হোটেল বুকিং দিয়েছে রেখেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং সিপিএ যৌথ আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আইপিইউ সম্মেলনের মতো সিপিএ সম্মেলনেও বাংলাদেশি পণ্যের মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের রফতানিমুখী পণ্যগুলোতে বিদেশিদের আগ্রহী করতে এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এতে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের পাশাপাশি হস্তশিল্প সামগ্রীকে প্রাধান্য দেয়া হবে। মেলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

bb

রোহিঙ্গা: সমাধান কোথায়?

Sharing is caring!FacebookTwitterGoogle+Pinterestঠিক দুই বছর আগে, সেপ্টেম্বর ২০১৫-তে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছিল ...